ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী সাওদা সুমির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জোরালো নারী সমাবেশ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাকস্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে সোচ্চার অবস্থান তুলে ধরেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে ভোলা জেলা মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতি ও প্রতিবাদী বক্তব্যে সমাবেশটি এক সময় তীব্র জনমতের প্রতিফলনে পরিণত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের নীতির সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল গভীর রাতে সাওদা সুমিকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ ও আলোচনা হয় এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বক্তারা অভিযোগ করেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা নয়; বরং এটি ভিন্নমত দমনের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। তারা বলেন, সাওদা সুমি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলা সেক্রেটারি রুকসানা বেগম রেশমার সভাপতিত্বে এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শামীমা ইয়াসমিন মায়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি রোকসানা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি আয়শা আক্তার, কর্মপরিষদ সদস্য জহুরা আক্তার, রোকেয়া বেগম, সদর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরজু ইসলাম এবং পৌরসভা সেক্রেটারি উম্মে হাসান। বক্তারা সাওদা সুমির জামিনে মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশব্যাপী জনমতের চাপেরই প্রতিফলন। তারা অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিম্মায় থাকা তার মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাওদা সুমিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সাওদা সুমির ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।









