শাকিল আহমেদ
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘জনি ফটোকপি’ নামের একটি দোকান থেকে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্রটি বিক্রি করা হয়েছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি।সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম অভিযুক্ত দোকানটিতে অভিযান চালান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।এদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।









