বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সোমবার সকালে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালুমহালের কাছে একটি পক্ষ মানববন্ধন করে। তবে মানববন্ধনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকার অভিযোগ সামনে আসায় কর্মসূচিটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনের আয়োজক সোহানুর রহমান বিপু ও জুয়েল রানা মৃধার অভিযোগ, সাঁড়া এলাকায় হাসিবুর রহমান হাক্কে মণ্ডলের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি নদীতীরের প্রতিরক্ষা ব্লক ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁরা মানববন্ধন করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌ-পুলিশ সূত্রের বরাতে মানববন্ধনের আয়োজক বিপু ও জুয়েল রানা মৃধার বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি এবং নদীর চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মামলা থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রিসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার নথি, অভিযোগের সত্যতা ও বর্তমান আইনি অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের তৎপরতায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে বৈধ ইজারাদারের কাছ থেকে বালু সংগ্রহ করতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানববন্ধন করেছেন। তবে এ দাবির সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাঁড়া ঘাটের বালু ব্যবসায়ী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেকমতউল্লাহ মণ্ডল কনক বলেন, তিনি পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন না। রাজশাহীর লক্ষ্মীনগর মৌজার বৈধ ইজারাদার মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে বালু কিনে সাঁড়ায় বিক্রি করেন। তাঁর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।
সাঁড়া ঘাটের ইজারাদার ও সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজাদুর রহমান মেম্বার বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা নিয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খাজনা আদায় করছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানববন্ধন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।
ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুর রহমান সরকার বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বিব্রত। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ শোয়াইব হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালু উত্তোলন, ইজারা ও ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নদীতীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।








