ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে বিকাশের পিন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, উধাও ২ হাজার ৫০০ টাকা
চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভাতার টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্রটি এ কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ সিএনবি পাড়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রাত ১২টার দিকে তাঁদের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে সরকারি ভাতার ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। টাকা জমা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে মোবাইল ফোনের এসএমএস ইনবক্স দেখতে বলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা এসএমএস পরীক্ষা করে টাকা পাঠানোর একটি বার্তা দেখতে পান। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও ৩০০ ও ১৫০ টাকা পাঠানোর ভুয়া এসএমএস আসে। এভাবে বিশ্বাস অর্জনের পর একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চায়। সরল বিশ্বাসে পরিবারের সদস্যরা পিন নম্বর জানিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান, অ্যাকাউন্টে থাকা পুরো ২ হাজার ৫০০ টাকা উধাও হয়ে গেছে। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, টাকা পাঠানোর নামে আসা এসএমএসগুলো ছিল প্রতারণার কৌশল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিবন্ধী তরুণীর সরকারি ভাতার এই অর্থ তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। সামান্য এই অর্থও প্রতারকদের হাতে হারিয়ে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তার অর্থ এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রতারক চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সতর্কতা: সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ ফোন করে বিকাশ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন, ওটিপি কিংবা গোপন তথ্য জানতে চাইলে তা কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না। এ ধরনের ফোনকল পেলে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হেল্পলাইন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।









