সরবরাহ সংকট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণে বিইআরসির ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশের এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তীব্র সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধিসহ নতুন করে দাম নির্ধারণের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গণশুনানিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের পক্ষে মতামত দেয়। শেষ পর্যন্ত অক্টোবরের নির্ধারিত দামের চেয়ে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে কমিশন।
এদিকে এলপিজির বাজারে ব্যবসায়ীদের একচ্ছত্র প্রভাব এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের হাতে এলপিজি বাজার কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা এলপিজি বাজারের ওপর দখল ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ব্যবসা অলিগোপলির শিকার হয়েছে। অলিগোপলি নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক কমিশন কার্যত অকার্যকর ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মজুত গড়ে তোলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের রয়েছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে গণশুনানিতে উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকারি এলপিজির দামও সমন্বয় করেছে বিইআরসি। সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে রান্নার জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোক্তারা। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি বন্ধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









