চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০ জনে। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬৪ জন রোগী। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন।শনিবার (২৪ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৬০ রোগীর মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। তাঁদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি।এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে দুজনকে। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ১৬৪ জন রোগীর মধ্যে ৯৯ জন পুরুষ ও ৬৫ জন নারী। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে কোথাও পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে। পাশাপাশি দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।









