এম সনজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে ট্রাইবেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জাফরপুর নতুন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারের আশ্রয় নিতে হয়।
ট্রাইবেকারে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ৪-৩ গোলে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। ফলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে আলমডাঙ্গা উপজেলা।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল নির্ধারিত না হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারে আলমডাঙ্গার খেলোয়াড়দের সাফল্যে শিরোপা নিশ্চিত হয়।
খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা উপস্থিত হন। পুরো ম্যাচজুড়েই গ্যালারিতে ছিল উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা। প্রিয় দলের সমর্থনে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ।
ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার ঘটানো এবং তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয় ১৩ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে।
আয়োজকরা জানান, নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান ফুটবলারদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখারও সুযোগ সৃষ্টি হবে। টুর্নামেন্টের ঘোষিত প্রতিপাদ্য ছিল—‘মাদক তো নয়, খেলাধুলা করি—মাদকমুক্ত দেশটা গড়ি’।
ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে হারিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে দেখা দেয় উচ্ছ্বাস। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।









