পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেতে নয়, নিরাপদে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য হেলমেট পরুন’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় ব্যতিক্রমী সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ। হেলমেট পরা মোটরসাইকেল চালকদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে নেত্রকোনা শহরের ব্যস্ততম সড়কে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম।
কার্যক্রম চলাকালে হেলমেট পরে ট্রাফিক আইন মেনে চলা মোটরসাইকেল চালকদের থামিয়ে তাঁদের হাতে রজনীগন্ধা ফুল তুলে দেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় সড়কে নিরাপদে চলাচল, হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের সচেতন করা হয়।
চালক ও পথচারীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ হতাহত হন। ট্রাফিক আইন অমান্য করে যানবাহন চালানো অপরাধ, আর হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে গুরুতর আঘাত ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পুলিশের ভয়ে নয়, নিজের সুরক্ষা ও পরিবারের কথা বিবেচনা করে প্রত্যেক চালকের হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো উচিত। চালক বেঁচে থাকলে তাঁর পরিবারও নিরাপদ থাকবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চালকদের সচেতন করার পাশাপাশি এদিন হেলমেটবিহীন কয়েকজন চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে হেলমেট দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। ফুল পাওয়া এক চালক বলেন, সামনে পুলিশ সদস্যদের সংকেত দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো জরিমানা দিতে হবে। তবে পুলিশ সুপার নিজ হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় তিনি অবাক হয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ চালকদের সচেতন করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।









