কুড়িগ্রামের উলিপুরে দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জমির নামজারি ও দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া খাজনা পরিশোধের নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়া এবং ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও অতিরিক্ত টাকা ছাড়া ভূমিসেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। অনলাইনে আবেদন করেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর শরিকদের মোট ৩৫ একর ৩১ শতক জমির নামজারি এবং খাজনা পরিশোধের বিষয়ে দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আহসান হাবিবের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় ৩৬ বছরের বকেয়া খাজনা বাবদ ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০২২ সালের ১৪ মে থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তহশিলদারকে ওই টাকা পরিশোধ করেন মিজানুর রহমান ও তাঁর শরিকেরা।
অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দেওয়ার পরও পুরো অর্থের সরকারি রসিদ দেওয়া হয়নি এবং সরকারি কোষাগারে জমার যথাযথ তথ্য পাওয়া যায়নি। মাত্র একটি খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ দেখিয়ে নামজারি সম্পন্ন করা হলেও বাকি অর্থের হিসাব মেলেনি। পরে তহশিলদার অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে টাকা ফেরত ও হিসাব চেয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি দলদলিয়া ভূমি অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মো. মিজানুর রহমান গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে মো. আব্দুল মজিদ, মো. আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুল জব্বার ও মো. আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দলদলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তহশিলদার আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে খাজনা পরিশোধের নামে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, তহশিলদার আহসান হাবিব সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। ওই ইউনিয়নের গেন্ডার আলগা গ্রামের আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা না দিলে তাঁদের খাজনা পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনলাইনে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন আবেদন নামঞ্জুর করে বাতিল করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অর্থের হিসাব যাচাই, আত্মসাৎ হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।









