মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে এক মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জয়রামপুর চায়ের দোকান মোড়ে জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
সমাবেশে আত্মসমর্পণকারী ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে সৎ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং মাদকমুক্ত জীবনযাপন ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য শপথ করানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা মোঃ আজিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মেজবাহ্ উদ্দিন এবং ৬ নম্বর হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির প্রতিনিধি মোঃ গোলাম সরোয়ার ছোটন ও মোঃ ফারুক হোসাইন (বাবু)। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাবেশে বক্তারা তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেষে ‘মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন’—এই প্রত্যয়ে উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।









