পাইকগাছায় ট্রলার চুরির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

খুলনার পাইকগাছায় ট্রলার চুরির ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানোর চেষ্টা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ। তিনি দাবি করেছেন, ট্রলার চুরির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব পাইকগাছায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের মিনহাজ নদী থেকে একটি ট্রলার চুরি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তিনি জানতে পারেন, খাটুয়ামারি গ্রামের আমিন সরদার চুরি হওয়া ট্রলারটি দাকোপের বাজুয়া এলাকার শিমুলের কাছে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ট্রলার বিক্রির টাকা নিয়ে আমিন ঢাকায় চলে যান বলেও তিনি দাবি করেন।

জাহাঙ্গীরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর ট্রলারের মালিক মহিদুল সরদার দাকোপের সুরখালী এলাকা থেকে আমিন সরদারকে আটক করে সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আমিন ট্রলার চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর। তবে পরবর্তীতে ঐ চুরির ঘটনায় জড়ানোর জন্য আমিন চেয়ারম্যানকে তার নাম বলেন। এ কারণে, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চৌকিদার পাঠানো হয়। জাহাঙ্গীরের অভিযোগ- চৌকিদার আসার আগেই আমিনের ভাই শামিম সরদার, ভাগ্নে তাজমিন সরদার, আবু তাহের ও ইমদাদুল তাকে মারধর করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে চৌকিদার এসে তাকে সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে আমিনের সঙ্গে তাকেও পাইকগাছা থানায় নেওয়া হয়।

জাহাঙ্গীর আরও বলেন, থানায় আমিন পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রলার চুরির ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানায়। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর পুলিশ আমিনকে সঙ্গে নিয়ে দাকোপের বাজুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ট্রলার উদ্ধার এবং কথিত ক্রেতা শিমুলকে আটক করেছে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, ট্রলার চুরির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তাকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। তার দাবি, পুরোনো একটি আর্থিক বিরোধের জের ধরে তাকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমিনের ছোট বোন ময়না, তার ভাই শাহিনসহ পরিবারের কয়েকজনের প্ররোচনায় আমিন প্রথমে সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে ট্রলার চুরির ঘটনায় তার নাম বলেছিলেন। জাহাঙ্গীরের দাবি, ময়নার স্বামী তাজউদ্দীন সরদারের কাছে শুকটি মাছের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অবগত আছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে, সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পীযুষ মন্ডল বলেন, আমিনের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি থেকে চৌকিদারের মাধ্যমে এনে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে জাহাঙ্গীর নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক ও তিনি থানা পুলিশকে বলেছিলেন। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাঙ্গীর এ ঘটনায় জড়িত নন। এ কারণে তাকে তার আত্মীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর শেখ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে মারধর, হুমকি এবং ট্রলার চুরির ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

পাইকগাছায় ট্রলার চুরির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

13 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com