গর্ত যেন সড়কের সৌন্দর্য, কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে হয়েছে বড় বড় খালখন্দক। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জমে পানি ও কাদা। এভাবেই প্রায় ৩-৪ বছর ধরে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর- ময়নদিয়া সড়কে চলাচল করছে মানুষ। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি স্থানীয়দের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন সেটিই মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যোগারদিয়া বটতলা মেইন রোডের অংশটির অবস্থা বেশি খারাপ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে এই সড়ক দিয়ে। আজ (৩০শে আগস্ট) সারা জমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়েছে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ছোট গর্ত, আবার কোথাও বড় বড় খালখন্দক তৈরি হয়েছে। যানবাহনগুলো এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কখনো এক পাশ দিয়ে, আবার কখনো সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে। এতে বিপরীত দিক থেকে আশা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তির সবচেয়ে বেশি। গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টির সময় গর্ত পানি ও কাদা জমে গেলে কোনটি সড়ক আর কোনটি গর্ত, তা বোঝা বড় কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার যদিও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, গর্তের কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। বৃষ্টি হলে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। তাই সাধারণ মানুষের দাবি দ্রুত সংস্কার করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে বাঁচতে সংস্কারের বিকল্প নেই।
সোনাপুর বাজারের একজন ব্যবসায়ী ও তার সাথে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বলেন। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়ে পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি কাদা জমে গেলে কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত, সেটা কেউ বুঝতে পারে না। গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় বিপদের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। যোগারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ও এ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে, কৃষক, ব্যবসায়ী, এবং অনেক সময় বিভিন্ন রোগীর গাড়িসহ সবাইকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মালামাল আনা নেওয়ার সময় আরও অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়, কারণ এ পাশের গাড়ি আর ঐপাশে যাইতে পারেনা, তাই ওই পাশ থেকে গাড়ি নিতে হলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গাড়ি নিতে হয়, অনেকদিন ধইরা এই কষ্ট করতেছি আমরা। বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রাস্তা ভালো কইরা সংস্কার করার জোর দাবি জানান সর্বসাধারণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষকরা। সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবু জাফর মিয়া বলেন, নতুন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে সড়কটির উন্নয়ন কাজ করা হবে বলে তিনি জানান। সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সড়পড়ে সমস্যা নিয়ে আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুতই উন্নয়ন কাজ করা হবে।









