সুব্রত চন্দ্র দাস (গাজীপুর প্রতিনিধি) :- গাজীপুরের কাপাসিয়ার চরবাঘুয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ নামের পাঁচ বছরের একটি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় দুইদিন পর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে কচুরিপানার নীচে ভেসে উঠেছে শিশু বায়েজিদের (৫) লাশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত বায়েজিদ চরবাঘুয়া গ্রামের মো: মিজান-মদিনা দম্পতির একমাত্র সন্তান। শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে স্থানীয় এক মহিলা হাঁসের জন্য শামুক কুঁড়াতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় এ মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাসমান লাশটি বায়েজিদের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) দুপুর দেড়টার দিকে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় বায়েজিদ নামের শিশুটি। এরপর সে আর বাড়ি ফিরেনি। তারপর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান মেলেনি তার। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের সকল জায়গায় দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরেও বায়েজিদের সন্ধান না পেয়ে কাপাসিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রা আরো জানান, ঘটনার দিন দুপুর বারোটার দিকে পাশের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বনভোজনের নৌকা যাচ্ছিল গান বাজিয়ে। নৌকা ও উচ্চ শব্দে গানের আওয়াজ শুনে আশপাশের ছোট ছোট ছেলে- মেয়েরা একসঙ্গে নৌকা দেখতে গিয়েছিলো। তাদের সঙ্গে বায়েজিদও ছিলো এবং তাদের সঙ্গেই আবার স্কুলের দিকে ফিরে এসেছিলো। এমন চিত্রই দেখা গেছে চরবাঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে। এরপর আবার কখন বায়েজিদ নদীর দিকে গেলো তা কেউ দেখেনি এবং বলতেও পারেনা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের মাষ্টারবাড়ি এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে বায়েজিদের মা-বাবা দুজনেই সেখানে থাকেন। আর ছয় বছরের বায়েজিদ থাকতো চরবাঘুয়া এলাকার দাদা-দাদীর সঙ্গে। বায়েজিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলো।
দাদা মমতাজ উদ্দিনের বড় আদরের নাতি ছিলো বায়েজিদ। দিনের বেশিরভাগ সময় দাদার সঙ্গেই সময় কাটতো তার। একমাত্র নাতিকে হারিয়ে দাদাও যেন পাগল প্রায়। এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবাও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মা-বাবা, দাদা-দাদী, নানীসহ পুরো পরিবারের সদস্যদের কান্না যেন কোনভাবেই থামছে না। তাদের কান্নায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বায়েজিদের বাবা মো: মিজান বলেন, আমার সন্তানের জন্য আমি পাগল প্রায় হয়ে গেছি। সন্তান হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে একজন বাবার কেমন লাগে তা সবাই বুঝতে পারবে না। এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে পড়ে বা সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে সুপারিশ করেছেন। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ও আবেদনটি যাচাই বাছাই করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বায়েজিদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বায়েজিদ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিলো। দুইদিন পর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো চরবাঘুয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে বিকেল তিনটায় স্থানীয় চরবাঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।









