চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কাজী মুকছার আলী (৭৫) মারা গেছেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন কাজী মুকছার আলী। গত কয়েক মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যদের নিবিড় সেবাযত্ন ও চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রোববার দুপুর ২টার দিকে যশোর সেনানিবাস থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁর শ্রীনগরের নিজ বাসভবনে পৌঁছায়। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা সামরিক মর্যাদায় মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় সামরিক রীতি অনুযায়ী রাইফেল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। বাদ জোহর শ্রীনগরে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা আড়াইটার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মৃত্যুকালে কাজী মুকছার আলী স্ত্রী, দুই ছেলে—সেনাসদস্য কাজী বকুল ও টিটু কাজী, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ সূত্রে জানা যায়, কাজী মুকছার আলী মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের বাসভবনের নিরাপত্তা ও দেখভালের দায়িত্বেও তিনি নিয়োজিত ছিলেন। ওই সময় রাষ্ট্রপতির সন্তান তারেক রহমানের স্কুলে যাতায়াতের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর রেকর্ড অনুযায়ী, কাজী মুকছার আলী ১৯৭৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরিকালে ১৯৮০-এর দশকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ২৯ বছরের সামরিক জীবন শেষে ২০০২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর সামরিক জীবনের বিভিন্ন তথ্য ইবিআরসি রেকর্ডে সংরক্ষিত রয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ এক শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, একজন দেশপ্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ সৈনিকের মৃত্যুতে দেশ একজন মেধাবী ও গুণী মানুষকে হারিয়েছে।কাজী মুকছার আলীর মৃত্যুতে শ্রীনগরসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।








