প্রতিবন্ধী নারীকে ধ’র্ষ’ণ মামলায় যাবজ্জীবন রায় শুনে জ্ঞান হারালেন আসামি

প্রতিবন্ধী নারীকে ধ’র্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুরের পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের আদেশে বলা হয়, অর্থদণ্ডের পাঁচ লাখ টাকা ভুক্তভোগী নারীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থদণ্ড আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। ক্ষতিপূরণের দাবি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালত আরও জানান, আসামি চাইলে রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। বিচারাধীন সময়ে হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এজলাস থেকে নামার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি কালুর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

প্রতিবন্ধী নারীকে ধ'র্ষ'ণ মামলায় যাবজ্জীবন রায় শুনে জ্ঞান হারালেন আসামি

23 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com