নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অটোরিকশা (মিশুক) ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওয়ালিউল্লাহ (২০) নামে এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোঃ শাহিন (৩১) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই জানায়, নিহত ওয়ালিউল্লাহর বাবা অসুস্থ থাকায় গত ৫ জুলাই দুপুরে তিনি বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ৬ জুলাই সকালে তার বাবা সোনারগাঁও থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। একই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গ্রুপদী গ্রামে ওয়ালিউল্লাহর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. হারুন রশিদ (৫৯) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে ৭ জুলাই আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পিবিআই সূত্র জানায়, মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৩ আগস্ট স্ব-উদ্যোগে মামলাটি তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়। পিবিআই নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিঃ) পুলক সরকারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকেই ছায়া তদন্তের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন মো. আওলাদ হোসেনকে (২৬) ৩ আগস্ট তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই মামলার অপর সন্দেহভাজন আসামি মো. শাহিনকে (৩১) সোনারগাঁও থানার আলমদি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বসতঘর থেকে নিহত ওয়ালিউল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বাংলালিংক সিম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৭ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা (মিশুক) উদ্ধার করে পিবিআই। তদন্তে পিবিআই জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওয়ালিউল্লাহর মিশুক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা নারায়ণগঞ্জের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারে যাওয়া-আসার জন্য ওয়ালিউল্লাহর মিশুক ভাড়া করে। পিবিআইয়ের তথ্যমতে, সুলতানশাদী বাজার থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যার সময় যাত্রীবেশী আসামিরা মিশুকটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওয়ালিউল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মিশুক ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় আসামিরা। মিশুকটি পরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তার আসামি মো. শাহিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত ওয়ালিউল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।









