চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরিহদ গ্রামে বিয়ের স্বীকৃতি ও স্ত্রী হিসেবে আইনগত অধিকার আদায়ের দাবিতে হবিগঞ্জ জেলার এক সন্তানের জননী এক নারী অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত প্রবাসীর পরিবারের দাবি, ওই নারীর অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।
রবিবার (২ আগস্ট) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে গৌরিহদ গ্রামের প্রবাসী সজীবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
অনশনরত নারী নিজেকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত গৌরিহদ গ্রামের শামসুল হকের ছেলে সজীবের সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার দাবি, পরে সিলেট জজ কোর্টে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সজীব নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, ভাড়া বাসায় থাকার খরচ, বাজারসহ বিভিন্ন ব্যয়ও বহন করতেন। এমনকি তাকে আলমডাঙ্গায় আসার জন্য টিকিটের টাকাও পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অনশনরত নারী আরও বলেন, “সজীব আমাকে নিজেই এখানে আসতে বলেছে। আমি আসার পরপরই সে আমাকে ব্লক করে দেয়। এখন তার পরিবার আমাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিচ্ছে না। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। বিয়ের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।”
তিনি দাবি করেন, তার কাছে সজীবের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্টের কপি, ছবি, মোবাইলে কথোপকথন, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, যা তার দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করবেন।
এদিকে সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ায় একই এলাকায় কাজ করার সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। কাজের প্রয়োজনে দেওয়া পাসপোর্টের ফটোকপি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ওই নারী একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেছেন বলে তাদের অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, “এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। তারা বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় তারা অর্থ নিয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, বৈধ বিয়ের কোনো আইনগত নথি বা সাক্ষী নেই। ফলে ওই নারীকে পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অভিযোগ করেছেন। অনশনরত নারীর বিয়ের দাবি এবং প্রবাসীর পরিবারের প্রতারণার অভিযোগ—দুটিরই স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।








