সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে ২০ ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শেরপুর সদর থানায় মামলা করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। গত ২২ জুলাই মামলা করার পর থেকে নিজ অফিসের কর্মকর্তাসহ কতিপয় ডিলারের চাপে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ৩৮ বিসিএস এর এ কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জনু মাস পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ সার পাচার ও কালোবাজারে বিক্রি করেছেন আসামিরা। এর মধ্যে রয়েছে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া, এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকার ৮২১ টন ডিএপি, ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকার ১৩৪ টন টিএসপি, ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১৭২ টন এমওপি। এতে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে হয় কৃষকের। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সার পাচারের খবর পেয়ে তিনি ডিলার ও তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী লোকজনের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি খাতা, ভাউচার নিয়ে এসে যাচাই-বাছাই করে দেখেন সার বিক্রিতে সবাই অনিয়ম করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন,‘ডিলারদের অনিয়ম কারসাজি ধরতে গিয়ে গত প্রায় এক মাস আমার জন্য ছিল নরকের মতো। প্রতিকার পেতে এমন কোনো জায়গা নেই যে আমি যাইনি। আমার বিভাগ পর্যন্ত আমার মুখের ওপর ফাইল ছুড়ে মেরেছে।’ তাঁর অভিযোগ– উপজেলা, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মীসহ সবার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে। মাত্র ২০ দিনে আটবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ডিলারদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি, অসদাচরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিনয়ের সঙ্গে প্রতিবাদ করলে সেটি হয়ে গেছে ঔদ্ধত্য। এই কঠিন সময়ে পুলিশ বিভাগ ছাড়া কেউ তাঁকে সহায়তা করেনি। অবশেষে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণে গত ছয় মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির অভিযোগে ১৫ ডিলার ও তাদের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা করা হলেও আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে যে, আমি সরকারকে বিব্রত করতে এসব করেছি। কি অদ্ভুত অভিযোগ! অথচ কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যে সার না পেলে সরকারের দুর্নাম হবে।’ এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি মহলের কৃষক এবং কৃষি নিয়ে সরকারের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাকে প্রতিহত করতে গিয়ে আমি রীতিমতো জীবনের ঝুঁকিতে আছি। চাকরি তো পরের কথা, এ যাত্রায় টিকে থাকতে পারলেই আলহামদুলিল্লাহ।’ শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক সমকালকে বলেছেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তাদের কাছে আংশিক প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনা চেয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়। সেই নির্দেশনা পাওয়ার আগেই এবং মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের আগেই তিনি মামলা করেন। এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন মামলা করতে গেলে অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই আমরা বলব আমাদের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি মামলা করেছেন। কিছু অনিয়ম আছে। যেহেতু তদন্তাধীন বিষয় আপাতত কিছু বলতে পারছি না।’








