আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ-অনিয়মের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

ইউএনওর নির্দেশে আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ৩ আগস্ট সরেজমিন তদন্ত , চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম , কলেজ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের নির্দেশে গঠিত এ কমিটি আগামী ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবে। গত বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে , গত ২০ জুলাই ইউএনওর ৯৪৫ নম্বর পত্রের আলোকে কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ হোসেন পলাশকে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক সদস্যসচিব এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নোটিশে তদন্ত কমিটিকে নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিয়োগসংক্রান্ত সব মূল নথি , গভর্নিং বডির সভার কার্যবিবরণী , রেজুলেশন , হাজিরা রেজিস্টার , হিসাবপত্র , ভাউচার , ব্যাংক স্টেটমেন্ট , বেতন-সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব নথি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগকারী , অভিযুক্ত , বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ থাকা আরলিজা খাতুন , কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি বা সহযোগিতা না পেলে তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে। এর আগে কলেজে আরলিজা খাতুন নামে এক শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয় , হাজিরা খাতায় তাঁর নাম বা স্বাক্ষর নেই , অনেক শিক্ষক-কর্মচারী তাঁকে চেনেন না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়োগসংক্রান্ত নথি দেখাতে পারেননি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির। হাজিরা খাতায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়েও তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এদিকে স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে , একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি , এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বিষয়টিও তদন্তকালে যাচাই করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এখন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা কতটা উঠে আসে এবং প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয় , সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ-অনিয়মের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

30 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com