সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে গণপরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে জেলার পরিবহন মালিক সমিতি। চুয়াডাঙ্গা সরকারি হাসপাতালে পরিচালিত এ কার্যক্রমে জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা পরিবহন, জে আর পরিবহন, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, দর্শনা ডিলাক্স, গোল্ডেন লাইন, জননী, নদীয়া, সাথী পরিবহন, রেখা পরিবহন, মামুন পরিবহন, শামীম এন্টারপ্রাইজ, নিউ মর্ডাণ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন এবং বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষায় কোনো চালক, সুপারভাইজার বা হেলপারের মাদকসেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুতিসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ দূরপাল্লার গণপরিবহনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্ধারিত সময় পরপর চালক পরিবর্তন নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া কোনো চালককে দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালাতে না দেওয়া, চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাই করে যানবাহন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া, মাদকাসক্ত, অসুস্থ বা অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় কাউকে গাড়ি চালাতে না দেওয়া, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিং পরিহার করে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জেলা পুলিশের মতে, মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন পরিচালনা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতে প্রয়োজনীয় তদারকি অব্যাহত থাকবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সকল পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের মাদকমুক্ত থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।









