মোঃ রাজিব হোসেন: বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর কলেজ রোডে দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা | সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কখনো দিনের পর দিন সড়কে পানি জমে থাকে। এতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শত্রুজিৎপুর কলেজ রোডকে এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সড়কের পাশে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য বসতবাড়ি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও বর্ষা এলেই রাস্তাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে গিয়ে তাদের কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সড়কে পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাচ্ছে, ফলে বিক্রি হ্রাস পাচ্ছে। অনেক দোকানের সামনেও পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক বিঘ্ন। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, আধুনিক ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হলে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এলাকাবাসী আরও জানান, বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ শত্রুজিৎপুর কলেজ রোডের উন্নয়ন শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাদের বিশ্বাস, দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হলে শত্রুজিৎপুর কলেজ রোডের জলাবদ্ধতা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে এবং এলাকাবাসী স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন।








