বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, “একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শিক্ষিত, নৈতিক ও দক্ষ মানবসম্পদ।” তিনি বলেন, মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ তরুণ প্রজন্মই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, শুধু বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করলেই হবে না, যারা পিছিয়ে রয়েছে তাদেরও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আজ যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তারা শুধু নিজেদের পরিবারের নয়, পুরো বাউফলের গর্ব। তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনুসরণ করে অন্য শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা ও মেধা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।”
সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই।
তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানে দক্ষ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে, যাতে তারা আদর্শ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি কে. এম. তামিম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম সোহেল, সাবেক জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর এবং বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি লিমন হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, সুধীজন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত অভিভাবকরা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।









