১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা, গণহত্যার বিচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাকI ঢাকা, ২২ জুন: গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরের পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না, বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণ অধ্যায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা এবং জনগণের অসচেতনতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার বারবার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও বর্তমানে নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্তে হত্যা, অপহরণ ও কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। সীমান্তে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডি, বিরোধী মতের মানুষের গুম, খুন ও নির্যাতন, আলেম-উলামার ওপর দমন-পীড়ন এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার আজও জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি। তার অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় শত শত মানুষ শহীদ এবং হাজার হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও বর্তমান সরকার দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমের গতি শ্লথ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, ২১ জুন রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং সোমবারের জরুরি সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি ২৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ জুলাই দেশব্যাপী সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মিরাজ খান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








