চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগর গ্রামে ভ্যান চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদু (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি অন্তরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রোববার রাতেই অভিযান চালিয়ে হাউসপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে অন্তরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি দুদু হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারের সময় অন্তর তার ভগ্নিপতির বাড়ি ডাউকি গ্রামে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তার ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাউসপুর গ্রামের অন্তরের একটি পাখি ভ্যান গত শুক্রবার রাতে চুরি হয়। এ ঘটনায় দুদুর বিরুদ্ধে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোববার সকালে অন্তরসহ সুমন, আশিক, বায়োজিদ, রফিক ও শাকিল নামে কয়েকজন দুদুর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয় এবং তাকে খুঁজতে থাকে।পরে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে দুদুকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার নাকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর অভিযুক্তরা মরদেহ হাউসপুর ব্রিজ সংলগ্ন বটতলার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাজারে বসে থাকার সময় তিনি কয়েকজন যুবককে ভ্যানে করে দুদুকে মারধর করতে করতে নিয়ে যেতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুদুকে খুঁজছিল তারা।ঘটনার পর নিহতের বাবা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অন্তরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং প্রধান আসামি অন্তরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









