বন্ধের নির্দেশ অমান্য করে সিজার, ক্লিনিকের বৈধতা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্নচুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক লুৎফর হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্রোপচার পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জনবলসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।আলমডাঙ্গা পৌর শহরে অবস্থিত ক্লিনিকটিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মণ্ডল।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৈধ সরকারি লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর আগে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে সেখানে অস্ত্রোপচার পরিচালনার অভিযোগ ওঠে।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মণ্ডল জানান, কয়েক দিন আগে ক্লিনিকটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কীভাবে সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালিত হলো, তা খতিয়ে দেখা হয়। বিভিন্ন কাগজপত্র ও অস্ত্রোপচার-সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই-বাছাই শেষে ক্লিনিকের মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বৈধ লাইসেন্স ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ বহাল থাকবে। এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর সোনিয়া খাতুন (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সারদারচর গ্রামের রবি হোসেনের স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ক্লিনিকটিতে সোনিয়া খাতুনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কিছু সময় পর তাঁর রক্তচাপ কমে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত বমি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় অস্ত্রোপচারে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ভূমিকা, অ্যানেসথেসিয়া প্রদানকারীর যোগ্যতা ও নিবন্ধন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ক্লিনিক বন্ধ রাখার নির্দেশের পরও সেখানে কীভাবে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হলো, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলা, অনুমোদনসংক্রান্ত অনিয়ম কিংবা সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।









