খুলনা অঞ্চলে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে র্যাব-৬। দেশজুড়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে খুলনা জেলায় ৩৩ জন শীর্ষ অপরাধীর একটি প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছে সংস্থাটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় তৈরি করা এই তালিকায় খুলনার ১৫ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং ১৮ জন দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।র্যাবের তালিকায় যারা আছেনর্যাব-৬-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ ‘আনবায়াসড’ বা নিরপেক্ষভাবে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অপরাধীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:শীর্ষ চাঁদাবাজ: ১৫ জন (যাঁরা মূলত শিল্প এলাকা, পরিবহন সেক্টর এবং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করেন)।অস্ত্রধারী ও অন্যান্য সন্ত্রাসী: ১৮ জন (যাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা রয়েছে)।র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক তালিকা মাত্র। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তালিকার পরিধি আরও বাড়তে পারে।কেএমপির আগের তালিকায় নেই অগ্রগতিউল্লেখ্য, গত মার্চ মাসের আগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) অপরাধীদের পৃথক একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল। সেই তালিকায় ছিল:২৮ জন চাঁদাবাজ৪৭ জন সন্ত্রাসী৪০০ জন মাদক কারবারিতবে অভিযোগ রয়েছে, কেএমপির সেই তালিকা হওয়ার পর প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও কোনো আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সাফল্য না আসায় জনমনে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে।
অভিযানের বার্তার্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের তালিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করাই প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে রমজান ও পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে র্যাবের এই সাঁড়াশি অভিযান ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
”অপরাধীদের কোনো দল নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তালিকাভুক্ত ৩৩ জনসহ অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছি। শীঘ্রই ফলাফল দৃশ্যমান হবে।” — র্যাব-৬ সূত্র









