ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর জেলা পুলিশের ‘নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের’ মধ্যস্থতায় স্বামীর সংসারে ফিরেছেন সোহানা। একই সঙ্গে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে আটকে রাখা দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোসপুর গ্রামের সোহানার সঙ্গে নগরকান্দা উপজেলার ভাটপাড়ার নাজমুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। কয়েক বছর পর সন্তানকে রেখে সোহানাকে তালাক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ে করে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।এরপর গত ৩১ অক্টোবর সকালে স্বামী নাজমুল সোহানাকে মারধর করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তাঁদের দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকেও আটকে রাখা হয়।এ ঘটনায় অসহায় সোহানা ন্যায়বিচারের আশায় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা পুলিশের ‘নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।পরে হেল্প ডেস্কের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে ডেকে আইনি ও মানবিক কাউন্সেলিং প্রদান করেন। তাঁদের পেশাদারিত্ব ও কার্যকর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। এ সময় অভিযুক্ত পক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সোহানাকে কোনো ধরনের নির্যাতন বা হয়রানি না করার অঙ্গীকার করে।পরে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শিশুসন্তানকে। পুলিশের তাৎক্ষণিক ও মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটে এবং নতুন করে সংসার শুরু করার সুযোগ পান সোহানা।নারী ও শিশু নির্যাতনসহ পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এ উদ্যোগ মানবিক পুলিশি সেবার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









