পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চৌরাস্তা সংলগ্ন মো. বেলায়েত কাজীর বাড়ির সামনে থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কে গত ২৭ জুন পিচ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কাজটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। কাজ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন রাসেল। তবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি,নতুন নির্মিত সড়কের এমন অবস্থা কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে মো. তারিকুল ইসলাম সুমন উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ভিআরআরপি (VRRP) পুনর্মেরামত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১হাজার ৯০০ মিটার সড়কের ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ের কাজ। নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিটুমিন,প্রাইম কোট, কার্পেটিং ও রোলিং সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কাজটি পিরোজপুর জেলা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তদারকিতে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসেন রাসেল আরও বলেন, “কার্পেটিংয়ের পর সড়ক পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিষয়টি না বুঝে নতুন কার্পেটিংয়ের স্তর হাত দিয়ে উঠিয়ে ফেলেছেন। তাদের এ বিষয়ে অবগত করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমাদের তদারকি বা কাজের মানে কোনো ত্রুটি ছিল না।” অন্যদিকে এলাকাবাসীর বক্তব্য,যদি কাজটি যথাযথ মান ও নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়ে থাকে,তাহলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য,সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার কারণ নিয়ে এলাকাবাসী ও এলজিইডির বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের দাবি জোরালো হয়েছে।









