শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) আওতাধীন এলাকায় আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫৯ বিজিবির আওতাধীন ১৩টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১২টি সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং একটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদারে দুটি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন অপু বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ৫৯ বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বিজিবি। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও সহযোগিতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধিনায়ক সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব।
পরিশেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ হোক বলে কামনা করেন।








