আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ আরও কঠিন করতে যাচ্ছে জাপান। দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (পিআর) পেতে আয়, জাপানি ভাষাজ্ঞান এবং পেনশনসহ আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ে নতুন শর্ত আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে এসব নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় জাপানে স্থায়ীভাবে থাকতে আগ্রহী বিদেশিদের নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সক্ষমতা দেখাতে হবে। পাশাপাশি জাপানি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের যুক্তি, দেশটিতে বসবাসরত বিদেশিদের এমনভাবে স্বনির্ভর হতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত সামাজিক বা আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাপানি ভাষাজ্ঞান এবং পেনশন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অবদানের সক্ষমতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেনশন-সংক্রান্ত নতুন শর্তে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি থাকলে সম্পদ বা অন্যান্য আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।
এদিকে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ছাড়িয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। শ্রমবাজারে বিদেশিদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।
তবে একই সময়ে জাপান তীব্র জনমিতিক সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে জন্মহার কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর জাপানের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।
এ অবস্থায় স্থায়ী বসবাসের পথ কঠিন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গবেষকদের একাংশের আশঙ্কা, বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ কঠিন হলে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের একটি অংশ জাপানে আসার বিষয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাপানের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক কঠোরতার পেছনে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। দেশটির রাজনীতিতে অভিবাসন ও বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থানের কথা না বলে সামাজিক শৃঙ্খলা, আইন মেনে চলা এবং স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। নতুন নীতির ফলে জাপানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশিদের আয়, ভাষাজ্ঞান, পেনশন ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ে আরও প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে জাপানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিদেশিদের বিষয়ে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে; অন্যদিকে দেশটির ক্রমবর্ধমান শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজনও বাড়ছে। ফলে অভিবাসন নীতির কঠোরতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা যায়, সেটিই এখন জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।








