ডোমারে ২৫ হাজার সচল মিটার বিক্রির অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার স্থাপনেও অর্থ আত্মসাতের দাবি

নীলফামারীর ডোমারে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সচল বিদ্যুৎ মিটার খুলে বিক্রি করে দেওয়া এবং প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নেসকোতে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ১১ জন মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারী নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগকারীরা ডোমার নেসকোর কার্যালয়ে প্রায় ৭ থেকে ১৫ বছর ধরে মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারী হিসেবে কাজ করছেন। ডোমার নেসকো শাখায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। ২০২৫ সাল থেকে এ শাখায় স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, মিটার ইনচার্জ সুজন আলীর নির্দেশে মিটার রিডাররা প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করেন। শুরুতে অনেক গ্রাহক প্রিপেইড মিটার স্থাপনে অনীহা প্রকাশ করলেও প্রকৌশলীদের নির্দেশে তাদের পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। খুলে নেওয়া সচল মিটারগুলো মিটার রিডাররা নেসকোর কার্যালয়ে জমা দেন। পরে এসব মিটার পুরোনো মিটার হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় এক ফেজের মিটারের জন্য মিটার রিডারদের ৮০ টাকা এবং তিন ফেজের মিটারের জন্য ৩০০ টাকা করে দেওয়া হতো। ডোমারে প্রায় ২৫ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও গত তিন মাস ধরে মিটার রিডারদের এ বাবদ পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীরা আরও জানান, পরে তারা জানতে পারেন, নেসকোর পক্ষ থেকে এক ফেজের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য ১ হাজার ২৪ টাকা ৮ পয়সা এবং তিন ফেজের মিটার স্থাপনের জন্য ২ হাজার ৫৯১ টাকা ৯৩ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মিটার স্থাপনকারীদের দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ৮০ ও ৩০০ টাকা। এ কারণে বরাদ্দকৃত অর্থের বাকি অংশ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এদিকে পুরোনো সচল মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মিটার খুলে নেওয়ার পর অনেক গ্রাহক পুরোনো মিটার ফেরত চাইছেন। বিষয়টি প্রকৌশলীদের জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের কাছে মিটার রিডারদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডোমার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, “গ্রাহকদের অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এ কাজে সরকারি গাড়িও ব্যবহার করা হচ্ছে। সচল মিটার খুলে বিক্রি করে দেওয়া হলে ওই মিটারের রিডিং নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে দেনা-পাওনার জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডোমার নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম। তিনি বলেন, “নেসকোর এই প্রকল্পটি ঠিকাদার দেখছেন। এখানে আমি বা আমার অফিস জড়িত নই। কোনো গ্রাহক সচল মিটার বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেননি। কমিশনের বিষয়টিও আমরা জানি না; ঠিকাদার বিষয়টি জানেন।”

তিনি আরও জানান, ডোমার এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নেসকোর প্রকল্পের বরাদ্দ, মিটার স্থাপন ব্যয়, পুরোনো মিটার সংরক্ষণ ও বিক্রির হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

ডোমারে ২৫ হাজার সচল মিটার বিক্রির অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার স্থাপনেও অর্থ আত্মসাতের দাবি

25 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com