নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা এবং এ-সংক্রান্ত পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক ২১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নেভি গলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তো তিনটি দাবিতে রাজপথে আছি। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার। এই দাবিগুলো সরকার মানছে না! দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।’
নাসীরুদ্দীনের ওই বক্তব্যের সঙ্গে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ‘এটা আসলে আমি এই প্রশ্নের… এখন পর্যন্ত বলতে পারব না, এই জন্য যে, সে এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছে! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে তো জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে—সে এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় যে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে সে এই কথা বলল কেন? এটা আসলে আমি এখন বলতে পারব না। এটা হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’
ডিএমপির এ কর্মকর্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বিষয়টি জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান চালাচ্ছে। শুক্রবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।









