কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিবেদিত অন্যতম একটি সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। ফসল উৎপাদনে অত্যাবশকীয় ও মূখ্য উপকরণ কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ফসলের মানসম্পন্ন বীজ তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে বর্ণিত কার্যক্রমটি কার্যকরভাবে সম্পাদন করে যাচ্ছে বিএডিসি। বিএডিসি’র বীজ কৃষকদের নিকট হয়ে উঠেছে একটি আস্থার প্রতীক। মৌসুম আসলেই বিএডিসি’র বীজ সংগ্রহ করতে কৃষকরা হয়ে উঠে কর্মতৎপর।
বিএডিসি’র মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এগুলো হলো: ভিত্তি, প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত। বিভিন্ন বীজ বর্ধন খামার ও চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন কার্যক্রমটি সম্পাদিত হয়। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠাকালে মাত্র ১৩.৮০ মে.টন বীজ উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বীজ উৎপাদনের পরিধি ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। বিগত উৎপাদন মৌসুমে নির্ধারিত সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ১৪৯৩৪৩.৫৮৫ মে.টন এর বিপরীতে সর্বমোট ১৪৪২৩১.৮৯৯ মে.টন বীজ উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফসলওয়ারি বীজের পরিমাণ হলো: আউশ ধানবীজ ৬১০৯.৫৪০ মে.টন, আমন ধানবীজ ২৪৯১৮.১৮৮ মে.টন, বোরো ইনব্রিড ৫০৫৯৭.৩৮৫ মে.টন, বোরো হাইব্রিড ৭২৮.৯৭১ মে.টন, গমবীজ ১১৯৬৬.৮৩০ মে.টন, ভুট্টাবীজ ৩৮.৫৬৭ মে.টন, আলুবীজ ৪৪১৮১.৭০০ মে.টন, পেঁয়াজ বীজ ৩০.৩৭০ মে.টন, পেঁয়াজ বাল্ব ৭৩.৫৫০ মে.টন, পাট বীজ ১৭৫৭.৩৬০ মে.টন, ডাল বীজ ১৯১৫.৯৩১ মে.টন, তৈল বীজ ১৮০৭.৩৩১ মে.টন, শীতকালীন সবজি বীজ ৭৯.৬১৫ মে.টন, গ্রীষ্মকালীন সবজি বীজ ২০.১০৮ মে.টন, হাইব্রিড সবজি বীজ ১.৪৫৩ মে.টন এবং মসলা বীজ ৫.০০০ মে.টন।
অন্যদিকে চলতি উৎপাদন মৌসুমেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বীজ উৎপাদনে সকল ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিএডিসি’র মাধ্যমে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ এবং পাট বীজ উৎপাদনের কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে পাট বীজ এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের বিষয়টি কৃষিক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে চলতি উৎপাদন মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও পাট বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে যথাক্রমে ৪০ মে.টন এবং ২২১০ মে.টন। বিভিন্ন খামারে পেঁয়াজ বীজ ও পাট বীজ উৎপাদনের কার্যক্রম পরিদর্শনপূর্বক বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম এ চ্যালেঞ্জ অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে বীজ উৎপাদনের সকল কলাকৌশল অনুসরণপূর্বক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এই ব্যাপক পরিমাণে বীজ উৎপাদনে সারাদেশে সর্বমোট ১০৫৭৭৫ জন চুক্তিবদ্ধ চাষী নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ৩৪টি বীজবর্ধন খামারেও ভিত্তি বীজ উৎপাদনে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। শুধু বীজ উৎপাদনেই বিএডিসি’র কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকেনা। পাশাপাশি উৎপাদিত বীজকে আরও পরিশুদ্ধ করার জন্য ৩১টি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্লিনিং, শর্টিং ও গ্রেডিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম সাধিত হয়। পরবর্তীতে ১০০টি বীজ বিক্রয় কেন্দ্র এবং অনুমোদিত ১০২৬৯ বীজ ডিলারদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারা দেশে যথাসময়ে গুণগতমানসম্পন্ন বীজ উৎপাদনে বিএডিসি’র ভূমিকা নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়। সুতরাং সরকারের আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বিএডিসি কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।








