চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গা গার্মেন্টস মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে ছাতা প্রতীকে আব্দুস সামাদ বাবলু ৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার গোলাম আজম বিটু চাকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে হাসিবুর রহমান রুবেল ৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মোহাম্মদ কামরুল হক রনি পেয়েছেন ৪৬ ভোট এবং সেলিম হোসেন পেয়েছেন ৩৪ ভোট।
সমিতির ১৪৯ জন ভোটারের মধ্যে বিভিন্ন পদে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সমিতির কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সহ-সভাপতি পদে এনায়েত হোসেন সাবু ৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৬১ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তুর্য ৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ,মহসিন পেয়েছেন ৪৯ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ. শামীম ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিউল হাসান মিলন পেয়েছেন ৩৭ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ. মেহেদী হাসান ৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল খালেক পেয়েছেন ৫৭ ভোট।
প্রচার সম্পাদক পদে মোহাম্মদ. আমিরুল ৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ. আকরাম পেয়েছেন ৫৫ ভোট।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ. আব্দুস সালাম ৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ. রাজিবুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৯ ভোট।
ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. রবিউল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর লিটন, জাহিদুল জাহিদ ও সজীব আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। অপর প্রার্থী মো. রানা আহমেদ নির্বাচিত হতে পারেননি।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ব্যায়াম কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সাবেক ব্যাংকার শহিদুল ইসলাম। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন কেএম ফারুক।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। তবে ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন শেষে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তাঁরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গার্মেন্টস ব্যবসাকে আরও সংগঠিত ও গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা গার্মেন্টস মালিক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নবনির্বাচিত কমিটি আগামী তিন বছর আলমডাঙ্গা গার্মেন্টস মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।









