চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারপাড়ায় একটি বদ্ধ ঘর থেকে রবিউল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রেলস্টেশনসংলগ্ন একটি ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রবিউল ইসলাম উথলী বাজারপাড়ার সালাম মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিনভর উথলী বাজার এলাকায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারণা করা হয়, কোনো ঘর থেকে মরদেহ পচে যাওয়ার দুর্গন্ধ আসছে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উথলী বাজারের এক ব্যবসায়ী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ বদ্ধ ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে একটি মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে দরজা খুলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উথলী বাজারপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাই ওই ঘরে বসবাস করছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কখন তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহের অধিকাংশ অংশ পচে-গলে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বদ্ধ ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে একটি মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে দরজা খুলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বেশিরভাগ অংশ পচে-গলে গেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সপ্তাহখানেক আগে তার মৃত্যু হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









