চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ৮৯টি সোনার বারসহ এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম। বিএসএফের দাবি, উদ্ধার হওয়া সোনা ২৪ ক্যারেটের এবং এর আনুমানিক ভারতীয় বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ রুপি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের হালদারপাড়া বিওপি এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
বিএসএফের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার সোনার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বিএসএফ আটক ব্যক্তির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক যুবকের নাম খবির উদ্দিন (৩২)। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. এছম মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খবির উদ্দিনসহ আরও তিনজন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। খবির ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক হন। অন্য তিনজন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আটকের পর বিএসএফ সদস্যরা খবির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিপুল পরিমাণ সোনার এই চালান কোথা থেকে ভারতে নেওয়া হচ্ছিল, এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালানচক্র জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, বিপুল পরিমাণ সোনা আটকের ঘটনায় দর্শনা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা ও নজরদারি জোরদার করেছে বিএসএফ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এত বড় সোনার চালানের পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চোরাচালানচক্র জড়িত থাকতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বিএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। একজন বাংলাদেশি নাগরিক বিপুল পরিমাণ সোনাসহ আটক হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন। আটক ব্যক্তির বাড়ি দর্শনা সীমান্ত এলাকার কামারপাড়ায় বলে তিনি জানান।
তবে সোনার চালানটি বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চোরাচালানচক্র জড়িত কি না—এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।









