বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। এ প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) সদর দপ্তরে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর এআইআইবি-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং দেশি-বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, সিনোম্যাচের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াং বো, এআইআইবির গ্লোবাল প্রজেক্ট অ্যান্ড কর্পোরেট ফাইন্যান্স ক্লায়েন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক নাজিব হায়দার, ডিবিএস ব্যাংক চায়নার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও লার্জ কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান ঝেং কে, ব্যাংক অব চায়না বেইজিং শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান বিং এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রাইভেট সেক্টর অ্যান্ড নন-সোভারেন গ্যারান্টিড অপারেশন্স ব্যুরোর মহাপরিচালক হান বিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাংলাদেশের প্রথম বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উদ্যোগ। গৃহস্থালির বর্জ্যকে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনজীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াং বো প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সিনোম্যাচ ও সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, পেশাগত সক্ষমতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ওয়াং বো বলেন, উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সবুজ ও টেকসই উন্নয়নের ধারণা বাস্তবায়নের পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশের বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পরিবেশ ও বসবাসের পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়নে বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সিনোসিওরের আওতাভুক্ত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ অর্থায়নের একটি উদ্ভাবনী মডেল গ্রহণ করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘উচ্চ মান, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন’ নীতিকে সামনে রেখে প্রকল্পটির নির্মাণ ও পরিচালনা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটিকে চীন-বাংলাদেশের সবুজ সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে এআইআইবিসহ অংশগ্রহণকারী অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তারা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সবুজ উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটির গুরুত্ব ও অনুকরণীয় মূল্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ খাতে সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তারা প্রকল্পটির অর্থায়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন গৃহস্থালির বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত ও পোড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৩৭ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি চালু হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি গৃহস্থালির বর্জ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট মোকাবিলা, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ফাং ইয়ানশুই, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার তিয়ান ঝেং এবং সিএএমসিই (CAMCE)-এর চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার কাং ঝিফেংসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ ব্যাংক, এআইআইবি, ডিবিএস ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, সিনোসিওর, সিটি ব্যাংক বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ও ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসেট অপারেশন ডিভিশনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।









