রাজবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলাকালে এক নারী উদ্যোক্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে নারী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলায় নারী ম্যাজিস্ট্রেটও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত একটি অভিযোগ নিয়ে এক নারী উদ্যোক্তা অভিযানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁতি দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় দায়িত্ব পালনরত নারী ম্যাজিস্ট্রেটকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে একজন অভিযোগকারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ কোনো অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গেলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের সামনে একজন নারী অভিযোগকারীর ওপর হামলার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী যদি প্রকাশ্যে নিরাপত্তা না পান, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখবেন? এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে মানুষ হয়রানি বা হামলার আশঙ্কায় অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় নারী ম্যাজিস্ট্রেট ও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাঁতি দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।








