মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন আকন্দবাড়িয়া গ্রামে মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৬টায় দর্শনা থানা লোকমোর্চা ও আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। “মাদকের আগ্রাসন দৃশ্যমান, প্রতিরোধেই সমাধান” এবং “পরিবার, সমাজ ও দেশ বাঁচাতে, মাদক রুখতে হবে একসাথে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিতে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ সদস্য, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পুলিশ সুপার বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সচেতন এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও ভয়াবহতা তুলে ধরে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আয়োজকরা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও মাদকের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









