চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী ‘সফট স্কিলস’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুল নাহার। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ও বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাঈদ আল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাকির হোসেন। সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, স্বাবলম্বী এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের সফট স্কিলস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মাঠপর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রান্তিক পেশাজীবীদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ, গ্রাহকসেবা, সময় ব্যবস্থাপনা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সফট স্কিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জন করলেই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে সফল হওয়া সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি যোগাযোগ, আচরণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো সফট স্কিলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রান্তিক পেশাজীবীরা নিজেদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিদিন প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে এক হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়া হবে। ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে সনদপত্রের পাশাপাশি ১৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা ও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস পর ফলোআপ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আয়নাল হক, প্রশিক্ষক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম দেলোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আয়-উপার্জনের সক্ষমতা এবং সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।









