চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মাটিকাটা এস্কাভেটর দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন প্রথমে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সময় পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। বিষয়টি একপর্যায়ে থানা পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরবর্তীতে দেশে ফিরে রফিউদ্দিন একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় এক বছর পর তিনি আবারও প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে সংসারে ফিরিয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সকালে মুকুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা একটি এস্কাভেটর এনে রফিউদ্দিনের বাড়িঘর ভেঙে ফেলেন। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রফিউদ্দিনের কর্মকাণ্ডে তারা ক্ষুব্ধ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাদের মতে, পারিবারিক বিরোধের সমাধান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, “মুকুল হোসেনের মেয়ে অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের। তার সঙ্গে যা হয়েছে তা দুঃখজনক। তবে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর না করে আইনের আশ্রয় নেওয়াই উচিত ছিল।”
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরায়েল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।









