আলমডাঙ্গা উপজেলায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল , গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে দুটি মাদক মামলার চারজন , পুলিশ আইনে একজন এবং পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন , আলমডাঙ্গা গড়গড়ি গ্রামের ফয়সালের ছেলে শুভ আলী খান (২১) , মেহেরপুর রাজনগর গ্রামের সেলিম আলীর ছেলে রাসেল রানা (৩০) , রাজনগর শেখপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে অন্তর আলী (২৩) , গোবিন্দপুর হরিতলার কার্তিক সাধুখাঁর ছেলে শুভংকর সাধুখাঁ (২১) , জেহালা মিলপাড়ার মোহন চৌধুরীর ছেলে রাসেল চৌধুরী (২৯) , আসমানখালি নান্দবার মাঠপাড়ার আলিম মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৩) , গড়গড়ি গ্রামের পালপাড়ার গোলাম খানের ছেলে হাসান (৩৭) , মুন্সিগঞ্জ গ্রামের স্টেশনপাড়ার আনছার আলীর ছেলে শান্ত (৩৩) , জেহালা অঘরনাথপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে মুজিবুর রহমান লাল মিয়া (৩২) , একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে সজল হোসেন (৩০) , গোপালদিয়াড় গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে শাহিদুল ইসলাম (৩২) , নান্দবার গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৬০) এবং একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রিন্টু (৩৫)।
পুলিশ জানায় , পাঁচকমলাপুর পুলিশ (ক্যাম্পের) এসআই মো. ইমরান হাসানের নেতৃত্বে খাদিমপুর ইউনিয়নের বানাতখাল মোড়ে অভিযান চালিয়ে শুভ আলী খান , রাসেল রানা ও অন্তর আলীকে ৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে (এসআই) শাহরিয়ার হুসাইন রুবেলের নেতৃত্বে পৌরসভার মিয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে শুভংকর সাধুখাঁকে ১০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। একই রাতে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের (এসআই) মানিক কুমার শিকদার জেহালা মিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে রাসেল চৌধুরীর বাড়ি থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে তাকে গ্রেফতার করেন। এদিকে বড়গাংনী পুলিশ ক্যাম্পের (এসআই) সৈয়দ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে নান্দবার মাঠপাড়ায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমানকে ৫টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ ছাড়া চলমান মাদক মামলায় হাসান , শান্ত , মুজিবুর রহমান লাল মিয়া এবং সজল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে একাত্তর মোড় থেকে শাহিদুল ইসলামকে পুলিশ আইনে আটক করা হয়। একই সময়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত নুরুল ইসলাম ও রিন্টুকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে , ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ গ্রেফতার হওয়া শুভ আলী খান , রাসেল রানা , অন্তর আলী , শুভংকর সাধুখাঁ , রাসেল চৌধুরী এবং হাবিবুর রহমানকে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন , মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। মাদক বিক্রি , বহন , সেবন বা কারবারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।









