আলমডাঙ্গায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, একই পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একই পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত পলান হোসেন (৭৫) গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামের মৃত সোহর উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলান হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী ইকবাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় ১০ বছর আগে স্ট্রোকজনিত কারণে পলান হোসেন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি নিজ বাড়ির একটি জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বসবাস করতেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বছর আগে ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন পলান হোসেন। তবে যে জমির দখল তাকে দেওয়া হয়, সেটি বিক্রয়কৃত জমি ছিল না। অপরদিকে, দলিলকৃত মূল জমিটি বিভিন্ন আইনগত জটিলতার কারণে তিনি ভোগদখলে নিতে পারেননি। পরবর্তীতে ইকবাল হোসেন তাকে অন্য একটি জমিতে বসবাসের সুযোগ দেন। সেই জমিতেই গত প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পলান হোসেন একাধিকবার ইকবাল হোসেনকে বলেন, “আমার কেনা জমির সমস্যা সমাধান করে দিলে আমি এই জায়গা ছেড়ে চলে যাব।” কিন্তু জমির জটিলতা নিরসনের পরিবর্তে তাকে ওই স্থান ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইকবাল হোসেন (৭০), মৃত হাজারী মণ্ডলের ছেলে, তার স্ত্রী বেলী খাতুন (৫৫), ছেলে বাবলুর স্ত্রী মিতু খাতুন (৩০) এবং নাতি রিয়াদ হোসেন (১৪) লাঠিসোঁটা নিয়ে পলান হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় পলান হোসেনকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইকবাল হোসেন এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রভাব থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলান হোসেনকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, নিহত পলান হোসেন অত্যন্ত অসহায় জীবনযাপন করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক-সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তার জীবিকা চলত। একটি ভাঙাচোরা ঘরের বারান্দায় মানবেতর পরিবেশে বসবাস করতেন তিনি। এমন একজন অসহায় বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আটকের লক্ষ্যে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

আলমডাঙ্গায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, একই পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

09 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com