ভবন নির্মাণ কাজের চরম ধীরগতির কারণে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবকাঠামোগত এই সংকটের ফলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ এবং পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এই ধরনের নির্মাণ বিলম্বের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তবে কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় ভবন না থাকার কারণে শ্রেণীকক্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সীমিত কিছু ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মোহনগঞ্জ কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজটি সুনামের সাথে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৬ জন স্টাফের মধ্যে ১১ জন এমপিওভুক্ত রয়েছেন। দুটি ট্রেডে মোট ২৩৬ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত আছে এবং নিয়মিত পাঠদানও পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ জানান:
“নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় এবং কাজের ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন কমছে, তেমনি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই ভবনের কাজ শেষ হওয়া জরুরি।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪ তলা বিশিষ্ট এই কলেজ ভবনের নির্মাণ কাজটি মূল ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম খান পাঠান (চন্দন) এর কাছ থেকে সাব-ঠিকাদার রুবেল আহমেদ হস্তগত করেন এবং বর্তমানে তিনিই কাজটি করাচ্ছেন। তবে কাজের এই মন্থর গতির কারণ এবং ভবনটি কবে নাগাদ বুঝিয়ে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে জানতে সাব-ঠিকাদার রুবেল আহমেদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলার কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং শিক্ষার্থীদের ল্যাব ও ক্লাসরুমের সংকট দূর করতে দ্রুত এই ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।









