মানবাধিকারের আড়ালে ভয়াল প্রতারণার জাল! জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

মানবাধিকারের আড়ালে ভয়াল প্রতারণার জাল! জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

১ম পর্ব  :আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা গ্রামে তাসলিমা নামের এক নারীর কাছ থেকে  মানবাধিকারের নাম ভাঙ্গিয়ে ২দিন আটকিয়ে রেখে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে  জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিরিন নামের ভুয়া এক মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারকুলা গ্রামের তাসলিমা নামের এক নারীকে দুই দিন একটি কক্ষে আটকে রেখে সালিশের নামে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ সময়  এক ব্যক্তিকে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে  অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন এবং তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়দের দাবি, শিরিন দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা থানা পাড়া আসাদুল হক এর বাড়ি ভাড়া নিয়ে  নিজ বাসার একটি কক্ষকে কথিত মানবাধিকার অফিস হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধে সালিশ করে আসছেন। বিশেষ করে পরকীয়ার অভিযোগ, পালিয়ে বিয়ে এবং পারিবারিক বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর সাথে জড়িয়ে আছে একাধিক ব্যাক্তি। এমনকি থানার থেকে বেশি অভিযোগ সে মিমাংসা করে বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানায়। বাসিন্দারা আরও জানায় তার স্বামী মিলন মারা যাওয়ার পর সালিশ এর টাকা দিয়ে তার সংসার চলে। আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে তার বাসা ছিল।বর্তমানে আলমডাঙ্গা থানা পাড়ায় একাধিক গ্যাং চলে তার নির্দেশে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীকে ব্যবহার করে কখনো পুলিশ, কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়। এর মাধ্যমে সালিশের নামে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় ও প্রভাব বিস্তারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংগঠনকে জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা কিংবা বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা আইন দেয় না। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত নারী বিভিন্ন সময় লিগ্যাল এইডের নাম ব্যবহার করে নিজেকে আইনজীবী বা আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করলেও তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পারকুলা গ্রামের তাসলিমার অভিযোগ মিমাংসা বাবদ নগদ এক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। এর পর তাসলিমা আলমডাঙ্গা থানায় গত ২০/০৬/২৬ তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

পাল্টা অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ, এমতাবস্থায় ২৭/০৬/২৬ তারিখ  শনিবার বেলা ১২টার সময় আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হওয়ার পর সালিশে উপস্থিত হোন আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেওয়া শিরিন। এসময়  সাংবাদিকরা জানতে চান মানবাধিকার সংস্থার নাম কি তখন তিনি কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। এসময় তিনি নিজেকে ভুয়া মানবাধিকার কর্মী হিসাবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন তিনবছর পূর্বে আমি মানবাধিকার এর সাথে জড়িত ছিলাম কিন্তু এখন আর নাই।  তাহলে কিভাবে বিচার সালিশ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন সকল মহলকে ম্যানেজ করে সালিশ করি।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানবাধিকার একটি মর্যাদাপূর্ণ ও মানবকল্যাণমূলক ধারণা। সেই পরিচয়ের আড়ালে যদি কেউ সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা শুধু আইনবিরোধী নয়, মানবাধিকারের মূল চেতনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

মানবাধিকারের আড়ালে ভয়াল প্রতারণার জাল! জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

27 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com