স্থানীয়দের হাতে গাঁজাসহ আটক দুই ব্যক্তি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড; অভিযুক্ত মাদক বিক্রির আস্তানায় অভিযান না হওয়ায় ক্ষোভ
এম, সনজু আহমেদ, তথ্য শাকিল আহমেদ: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বারাদি ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনতার হাতে গাঁজাসহ আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যেখান থেকে তারা মাদক কিনে বের হচ্ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি, সেই বাড়িতে পুলিশ অভিযান না চালিয়ে শুধু দুই মাদকসেবনকারীকে আটক করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বারাদি ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গাঁজা নিয়ে বের হওয়ার সময় স্থানীয়রা দুই ব্যক্তিকে হাতে-নাতে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক হওয়ার পর একজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকেও ধরে ফেলেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়রা পুলিশের কাছে দাবি জানান, যেখান থেকে মাদক কেনাবেচা হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, সেই বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হোক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান না চালিয়ে শুধুমাত্র আটক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে চলে যায়।
এরপর আলমডাঙ্গা স্টেশন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর আক্তার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদারহুদা গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে শমসের আলী এবং একই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে রানা আহমেদ।
প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে আদালত মাদকসেবনের অভিযোগে শমসের আলীকে সাত দিনের এবং রানা আহমেদকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই মাদক নির্মূল হবে না। যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ ওঠা মাদক বিক্রির আস্তানাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের অপব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।








