বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মানবিক সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা
এম সনজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গরিব ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এক অসহায় প্রসূতি মায়ের বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা।
রবিবার (১৪ জুন) রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সুমি খাতুনের সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ রয়েছেন।
জানা গেছে, সুমি খাতুনের পিতা রেজাউল হক। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারটির পক্ষে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। এ অবস্থায় তিনি ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে তিনি যাকাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই মানবিক সহায়তা হিসেবে তার সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানান।
পরবর্তীতে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা করে। এতে অসহায় পরিবারটি স্বস্তি ফিরে পায়।
বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডা. লিপা নারসিস চৈতালী ও ডা. আব্দুল সালাম।
প্রসূতি সুমি খাতুনের স্বামী শাকিল আহমেদ বলেন, “ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ।”
ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং ফাতেমা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আলী বলেন, “আমার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সহায়তা, বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, ফাতেমা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেসব অপারেশন করা হয়, তার মধ্যে গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনগুলো বিনামূল্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আলমডাঙ্গার হাইরোডে অবস্থিত ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশন চলতি বছরের ২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। ওইদিন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের উপস্থিতিতে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বর্তমানে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের ব্যবস্থা এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা ও কুষ্টিয়া জেলার কিছু এলাকার প্রসূতি মায়েদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও সহজ হবে। ফাতেমা মানবিক ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।








