বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ নেতা, সিলেটের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতরাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন অনুকরণীয় দাঈ, দূরদর্শী সংগঠক এবং গভীর ইলমের অধিকারী মহান ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তরুণদের দ্বীনি আন্দোলনের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য বিচরণক্ষেত্র ছিল পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে। তাঁর আদর্শিক প্রতিপক্ষরাও তাঁকে মন থেকে শ্রদ্ধা করতেন।” রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান সিলেটের আঞ্চলিক রাজনীতিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত প্রভাবশালী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সিলেট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সংসদে এলাকার জনগণের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। জামায়াতে ইসলামীর কঠিন রাজনৈতিক সংকটকালগুলোতে তিনি অগ্রভাগে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দেশ ত্যাগের একাধিক সুযোগ ও প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি দেশেই অবস্থান করেন। সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নৈতিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা করা হলে দল-মত নির্বিশেষে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অনেক নেতাও তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন। একজন রাজনৈতিক নেতার চারিত্রিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা উঁচুতে হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তিনি ছিলেন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তI শোকের ছায়া ও জানাজা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেট অঞ্চলসহ দেশজুড়ে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আলেম সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুমের জানাজার নামাজ ও দাফনের বিষয়ে তাঁর পারিবারিক ও দলীয় সূত্র থেকে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দানের জন্য দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।









