পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় নতুন করে হাম রোগের প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসের প্রথম ৯ দিনেই ৮ জন সন্দেহভাজন শনাক্ত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী দুই শিশু—মরিয়ম ও হাবিবা চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,শনাক্ত হওয়া সকল রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল এসে পৌঁছায়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,পূর্বে শনাক্ত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত বরিশাল ও ঢাকার উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,উপজেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক সংকট,আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ভবন ও পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাম রোগের বিস্তার রোধে গত ১ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং চিকিৎসক-কর্মচারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুব্রত কর্মকার হাম রোগের লক্ষণ,প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বর,শরীরে লালচে ফুসকুড়ি,চোখ লাল হওয়া বা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।









