ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল: শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবেঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত ‘শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ককাসের পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।বৈঠকে ককাসের সদস্য মোরশেদ মিলটন এমপি, এ কে এম ফজলুল হক মিলন এমপি, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, আন্না মিন্জ এমপি ও মাধবী মার্মা এমপি অংশ নেন।বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহি নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় উদ্যোগ জোরদার, নীতি-আলোচনা ও তদারকির বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।তিনি বলেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষায় অনেক আইন রয়েছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইন, বাজেট ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।ককাসের কার্যক্রম গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের আহ্বান জানান তিনি। শিশু অধিকার-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন এবং নির্বাহী বিভাগে প্রতিবন্ধকতা থাকলে বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও সংসদে বিষয়টি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন ডেপুটি স্পিকার।তিনি নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংসদীয় ককাসকে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।বৈঠকে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে শিশুদের যথাযথ শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব কার্যক্রমের সুফল যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিরা, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









